খুঁজুন
advertisement
advertisement
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক, ১৪৩৩

৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৬:২৫ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
৬৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইসলামী ব্যাংকের ঋণের অর্থ বিতরণে জাল নথি ব্যবহার, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো এবং অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে এ মামলা করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) চট্টগ্রাম দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি করেন দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. রুবেল হোসেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন।

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং মানিলন্ডারিংয়ে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ‘ক্লাসিক ট্রেডিং’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। তবে অনুসন্ধানে প্রতিষ্ঠানটির বাস্তব কোনো কার্যালয়, গুদাম কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক কার্যক্রমের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে দুদক।

মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী ও আরামিট সিমেন্ট পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান, প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ্ আলম, আরামিটের একাধিক কর্মকর্তা এবং ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তা।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৪ জানুয়ারি ইসলামী ব্যাংকের বহদ্দারহাট শাখায় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের নামে একটি আল-ওয়াদীয়াহ চলতি হিসাব খোলা হয়। পরে ২০১৭ সালের ১৫ মে হিসাবটি জুবলী রোড শাখায় স্থানান্তর করা হয়।

একই বছরের ১৫ অক্টোবর আরামিট সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুকমীলা জামান ওই শাখায় ৫০০ কোটি টাকা কার্যকরী মূলধন ঋণের আবেদন করেন। ৮ নভেম্বর ব্যাংকটির ক্রেডিট কমিটির ৫১তম সভায় ৩৫০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। পরে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটি ঋণটি অনুমোদন করে।

এজাহারে বলা হয়েছে, গ্রাহকের আবেদনের পর ৫৪টি বাই-মুরাবাহা ডিলের মাধ্যমে মোট ২০৫ কোটি ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ক্লাসিক ট্রেডিংকে সরবরাহকারী দেখিয়ে ২৭টি ডিলের মাধ্যমে ৬৩ কোটি ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, আরামিট গ্রুপের হিসাব বিভাগের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমকে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের মালিক ও সরবরাহকারী হিসেবে দেখানো হয়। অথচ তিনি আরামিট গ্রুপেরই একজন কর্মচারী ছিলেন।

অনুসন্ধানে পাওয়া নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ১৭ জানুয়ারি জাহাঙ্গীর আলমের নামে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের একটি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। এ জন্য চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ২০১৮ সালের ১৪ জানুয়ারি ইস্যু করা ৩০৩৯৬ নম্বর ট্রেড লাইসেন্স জমা দেওয়া হয়েছিল। ওই হিসাবে তাঁর স্ত্রী শাহনাজ আক্তারকে নমিনি দেখানো হয়।

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) স্টেশন রোড শাখায় খোলা ওই হিসাবের পরিচয়দানকারী ছিলেন এ আর এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দীন। হিসাব খোলার নথিতে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের ঠিকানা হিসেবে চট্টগ্রামের নতুন চাকতাইয়ের ড্রামপট্টিতে সালেহ আহমেদ সওদাগর ভবনের নিচতলার ঠিকানা উল্লেখ করা হয়। তবে দুদকের অনুসন্ধানে ওই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটির কোনো কার্যালয় বা গুদাম পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠানটির আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমেরও প্রমাণ মেলেনি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবসায়িক কার্যক্রম না থাকা সত্ত্বেও ক্লাসিক ট্রেডিংকে সরবরাহকারী এবং আরামিট সিমেন্টকে মালামাল গ্রহণকারী হিসেবে দেখানো হয়। এরপর ক্লিংকার, জিপসাম, লাইমস্টোন ও স্ল্যাগসহ সিমেন্ট উৎপাদনের বিভিন্ন কাঁচামাল সরবরাহের কথা উল্লেখ করে ভুয়া ও জাল ইনভয়েস তৈরি করা হয়।

এজাহার অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর থেকে ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর পর্যন্ত ২৭টি বাই-মুরাবাহা ডিলের অর্থ ছাড়ের আবেদন করা হয়। আরামিট সিমেন্টের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহ্ আলম স্থানীয় বাজার থেকে কাঁচামাল কেনার কথা উল্লেখ করে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের অনুকূলে অর্থ পরিশোধের আবেদন করেন।

প্রতিটি আবেদনের সঙ্গে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের প্যাডে তৈরি মালামাল সরবরাহের ইনভয়েস দাখিল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছে দুদক। তবে এসব নথিতে প্রকৃতপক্ষে মালামাল সরবরাহের তথ্য ছিল না বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ইনভয়েস যথাযথভাবে যাচাই না করেই অফিস নোট ও প্রি-অডিট মেমো তৈরি এবং তাতে স্বাক্ষর করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব নথির ভিত্তিতে ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের নামে পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়।

ঋণ বিতরণের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ১০ শতাংশ নগদ জামানত রাখার শর্ত ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনায় ঋণের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার নথিতে একটি ডিলের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৪ অক্টোবর ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখা থেকে ২ কোটি ৮০ লাখ টাকার পে-অর্ডার ইস্যু করা হয়। ওই অর্থ ইউসিবির স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে একই দিন দুটি চেকের মাধ্যমে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৪০ হাজার ও ১ কোটি ২৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা ইউসিবির বহদ্দারহাট শাখার একটি পার্কিং হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে পে-অর্ডারের মাধ্যমে অর্থ জমা হয় আরামিটের এক কর্মচারীর নামে খোলা ইয়াসিন অ্যান্ড ব্রাদার্সের হিসাবে।

এজাহারে আরও বলা হয়েছে, ২৭টি ডিলের মধ্যে ২৩টির মোট ৫৩ কোটি ১১ লাখ টাকা ইউসিবির স্টেশন রোড শাখায় ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হয়। পরে ওই হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তর করে আইএফআইসি ব্যাংকের শাহ আমানত মার্কেট শাখায় আরামিট সিমেন্ট লিমিটেডের হিসাবে জমা করা হয়।

অন্য চারটি ডিলের মোট ৭ কোটি ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের হিসাবে জমা হওয়ার পর ইনওয়ার্ড ক্লিয়ারিংয়ের মাধ্যমে প্রিমিয়ার ব্যাংকের জুবলী রোড শাখায় আরামিট সিমেন্টের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। দুদকের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য আড়াল করা হয়। এ প্রক্রিয়ায় অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আরামিট সিমেন্টের এজিএম এ কে এম মারুফ এবং হিসাব বিভাগের এজিএম ও ক্লাসিক ট্রেডিংয়ের কথিত স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের জুবলী রোড শাখার ১০ কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন প্রিন্সিপাল অফিসার মহিউদ্দীন, বিনিয়োগ বিভাগের প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আখতার হোসেন, প্রিন্সিপাল অফিসার ও জেনারেল ব্যাংকিং ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল হক, বিনিয়োগ ইনচার্জ ও সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার মোহাম্মদ আবদুল কাদের, ভাইস প্রেসিডেন্ট ও শাখা ব্যবস্থাপক মুহাম্মদ আবদুল করিম, সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার ও বিনিয়োগ ইনচার্জ মো. শহিদুল্লাহ, এফএভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মুহাম্মদ নিজাম উদ্দীন, এসভিপি ও শাখা ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ, এসভিপি ও অপারেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মহসীন আলী এবং সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার রিদওয়ানুল হক।

দুদকের অভিযোগ, ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঋণের নথি যাচাই, অফিস নোট প্রস্তুত, বিনিয়োগ প্রস্তাব অনুমোদন এবং পে-অর্ডার ইস্যুর প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। তবে কোন কর্মকর্তা কোন পর্যায়ে কী ভূমিকা পালন করেছেন, তা তদন্তে যাচাই করা হবে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মোকাররম হোসেন বলেন, মামলাটি দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়মের একটি গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ। এজাহারে ঋণের অর্থ ছাড়ের ক্ষেত্রে জাল কাগজপত্র ব্যবহার, ভুয়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান দেখানো এবং অর্থ স্থানান্তরের মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রত্যেক আসামির সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হবে। অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম

পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৮ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
পাইকগাছায় ফোনে চাঁদা দাবি; মামলা দায়েরের ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩

ছবি যোগফল প্রতিনিধি

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি:

খুলনার পাইকগাছায় আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে ফোনে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে কথিত ‘ডন বাবু’ ওরফে ‘গ্রেনেড বাবু’ এবং ‘নবাব’ নামে পরিচিত মোল্লা ইয়ামিন, তাঁর মা শাহিদা বেগম (৫০) ও স্ত্রী হিরা আক্তারকে (২৬) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানা সূত্রে জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর এবং দ্বিতীয় দফায় ২৫ অক্টোবর পাইকগাছা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট জিএম আব্দুস সাত্তার ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আক্কাজ আলীর কাছে ফোন করে চাঁদা দাবি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তাঁরা পৃথক দুটি মামলা করেন। মামলাগুলো পাইকগাছা থানায় ২৭ ও ২৮ নম্বর হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে, তারিখ ২৭/১০ বলে জানা গেছে।

মামলা দায়েরের পর জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুকের নির্দেশনায় এবং পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আব্দুল আউয়াল কবিরের সার্বিক দিকনির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে পুলিশ। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে বাগেরহাটের রামপাল এলাকা থেকে ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এ বিষয়ে পাইকগাছা থানা অফিসার ইনচার্জ শেখ আব্দুল আউয়াল কবির জানান, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অভিযান পরিচালনা করে বহুল আলোচিত ফোনে চাঁদাবাজির ঘটনার ৩ আসামিকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। তার নামে দেশের বিভিন্ন থানায় চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে। 

এদিকে, গত ২৬ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদের কাছে সর্বহারা পার্টির পরিচয় দিয়ে আসলাম শিকদার নামে এক ব্যক্তি চাঁদা দাবি করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৬ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
গোপালগঞ্জে শিশু মুহিন হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, একজনের যাবজ্জীবন

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা

সাইফুল ইসলাম  ।। গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে চাঞ্চল্যকর শিশু তালহা হত্যা মামলায় আমিন উদ্দিন ও শিহাব মোল্লা নামে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। 

একই মামলায় অপর এক আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ১ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। 

আজ বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে গোপালগঞ্জ শিশু ও নারী নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও বিশেষ দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মোরশেদ আলম এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাওন মোল্লা পলাতক রয়েছে। 

মামলার অপর আসামি লেয়াকত আলী মোল্লাকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের মানজুরুল ইসলামের ১২ বছর বয়সী ছেলে তালহা ওরফে মুহিন মাছ ধরা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি।

পরে ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে মানজুরুল ইসলামের ভাড়াটিয়া আমিন উদ্দিনের ঘরে থাকা একটি ট্রাংক থেকে মুহিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা মানজুরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ বুধবার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন আদালত। তবে রায়ে নিহতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্টি প্রকাশ করলেও আসামি পক্ষের আইনজীবী উচ্চ আদালতে আপিলের কথা জানিয়েছেন।
মামলার বাদী ও ভিকটিমের পিতা মনজুরুল ইসলাম রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট তৌফিকুল ইসলাম এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাড.এম জুলকদর রহমান।

নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

বার্তা বিভাগ
প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ৮:৪৩ অপরাহ্ণ প্রতিবেদকের সকল নিউজ
নিবন্ধনের দাবিতে তারেক রহমানের অনশন ১৩১ ঘণ্টা, শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন

ছবি সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের দাবিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন আমজনতার দলের সদস্যসচিব তারেক রহমান। অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে দাবি করেছে দলটি।

রোববার (৯ নভেম্বর) বিকেলে আমজনতার দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়, আমরণ অনশন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তারেক রহমান। তিনি বর্তমানে ‘জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে’ রয়েছেন বলে দাবি করে তাঁর জীবন রক্ষায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

দলটির নিবন্ধনসংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি অনশনরত তারেক রহমানের জীবন রক্ষায় নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

গত ৪ নভেম্বর বিকেল থেকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের প্রধান ফটকে অনশন করছেন তারেক রহমান। তাঁর কর্মসূচির প্রতি বিএনপি, গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সংহতি জানিয়েছেন বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তারেক রহমানকে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের একজন সংগ্রামী ও সাহসী তরুণ নেতা হিসেবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান, ২০১৮ সালের কোটা আন্দোলনসহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে তিনি আন্দোলনের অগ্রভাগে থেকে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অনশনের ১৩১ ঘণ্টা পার হলেও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে দলটি মনে করছে। নিবন্ধনের দাবির বিষয়ে কমিশনের নীরবতা ও উদাসীনতা জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করছে বলেও দাবি করা হয়।

তারেক রহমানের সঙ্গে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায় নির্বাচন কমিশনকে নিতে হবে বলে বিবৃতিতে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।

তুলি আক্তার/ অনলাইন ডেস্ক / যোগফল.কম